রাধানগর ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের লোক বসবাস করে থাকে । তার মধ্যে মুসলমান সংখ্যা বেশী। মুসলমানের পাশাপাশি হিন্দু বসবাস করেন। সকল জাতি তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে থাকেন।
বদরগঞ্জ উপজেলার ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগলিক অবস্থান এই উপজেলার মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতি গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এই উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে চিকলী নদী। এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবু ও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন কথ্য ভাষায় মহা প্রাণধ্বনি অনেকাংশে অনুপস্থিত, অর্থাৎ ভাষা সহজীকরণের প্রবণতা রয়েছে। উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার সাথে বৃহত্তর রংপুর জেলার আঞ্চলিক ভাষার মিল রয়েছে।
বদরগঞ্জ উপজেলার ইতিহাস খুব প্রাচীন। এই এলাকায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন সভ্যতার বাহক হিসেবে দেদীপ্যমান। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে রাধানগর ইউনিয়নের লোকের অবদান ও অনস্বীকার্য। ভাওয়াই সম্রাট আব্বাস উদ্দিন এর গানের চর্চা ও বেড়ে ওঠা এ অঞ্চলে।
এখানে তিস্তা পাড়ের সুখ দুঃখ নিয়ে লোক সংস্কৃতি নিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে ভাওয়াইয়া গান। উত্তাল তিস্তার বুক চিড়ে পাল তুলে মাঝি গেয়ে ওঠে তার অজানা আশংকার বেদনার গান।
তিস্তার ধু ধু বালুচর এক সময়ে হয়ে ওঠে সবুজের সমারোহ। চারদিকে ফসল আর ফসল।কৃষকের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দ আর তৃপ্তির হাসি। আনন্দে গেয়ে ওঠে গান।
পালকিঃ
চিরায়ত গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের ধারক পালকি আর চোখে পড়ছে না। পালকিও কোন কোন খানদানি বাড়িতে অচল হয়ে পড়ে আছে। কিংবা মিউজিয়াম পিস হয়ে কালের স্থানু সাক্ষী হয়ে আছে জাদুঘরে। বেহারাদের সুর করে সেই কিনু গোয়ালার গলি ঘুরে মাঠ প্রান্তর পেরিয়ে গন্তব্যের কাছে দূর থেকে সেই ছয় বেহারাদের আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের ছন্দিত লয়ে হাঁটার সাথে সাথে এ গাঁও থেকে ওগাঁয়ে নাইয়র, বিয়ের কনে-বর কিংবা মান্যগণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়ার এ চক্রবিহীন যান সম্ভবত তার অন্তিম প্রহর গুনছে।
পালকি বহরের আর সেই পরিচিত দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না। আধুনিক যোগাযোগের গোগ্রাসে এ অঞ্চল থেকে পালকি হারিয়ে যাচ্ছে বিস্মৃতির অতল তলে।
এককালে এমনকি ৫০’ -৬০’-এ দশকেও এ অঞ্চলে অনেক পালকি চোখে পড়তো। বিশেষ করে বিয়ে বাড়িতে নব বরবধূ আনা নেয়ায় পালকি ব্যবহার করা হতো। চক্রযানের বিপ্লবে পালকির জায়গা করে নেয় ছৈওয়াল নকশী গরু গাড়ি। আর আধুনিকোত্তর এই যুগে জায়গা দখল করে নিয়েছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। হালে লাঙ্গল যেমন গ্রামেও অচল তেমনি ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলে নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহার করছে কার আর মাইক্রোবাস। এ যানের রমরমা ব্যবসাও একই কারণে জমে উঠেছে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস